Author

ইমরান রাইহান

Browsing

খাওয়ারিজমের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত সমৃদ্ধ একটি শহরের নাম কোকন্দ। (১) সাইর নদীর তীরে অবস্থিত শহরটি বিখ্যাত ছিল এর নির্মল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উর্বর ভূমির জন্য। সুজলা-সুফলা এই শহরে বিস্তৃত ফলের বাগান ও ফসলি জমির মাঝে মাথা উঁচু করে ছিল মসজিদের মিনার। কিছুদূর পর পর গড়ে উঠেছিল গ্রাম। পাহাড়ের ঢালে বিছিয়ে থাকা সবুজ ঘাসের ডগা নড়ে উঠত দখিনা বাতাসে। উপত্যকায় চড়ে বেড়াত পশুদের পাল। সন্ধ্যায় সূর্যের আলোয় লাল হয়ে যেত সাইর নদীর পানি, তখন দিনের কাজ শেষে ক্লান্ত মানুষ ফিরত ঘরে।…

দূতহত্যার সংবাদ শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন চেঙ্গিস খান। তার নিষ্ঠুর চেহারায় জমা হলো অশ্রুবিন্দু। হঠাৎ লাফিয়ে উঠলেন তিনি। খুলে ফেললেন মাথার ক্যাপ, একটানে ছিড়লেন জামার বুকের অংশ। ছুটলেন নিজের ঘোড়ার দিকে। খুটি থেকে হ্যাচকা টানে ছুটিয়ে নিলেন প্রিয় ঘোড়া নাইমানকে। জিন ছাড়াই ঘোড়ার কেশর চেপে রওনা হলেন বুরখান খালদুন পর্বতের দিকে। তাঁর পিছু নিল সন্তান ও সেনাপতিরা। তাতারদের কাছে পবিত্র পর্বত বলে স্বীকৃত বুরখান খালদুনের সামনে পৌঁছে তিনি কোমরবন্ধ খুলে গলায় লটকে দিলেন। এর অর্থ হলো তিনি দেবতাদের সামনে আত্মসমর্পণ…

১৫০০ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ গোবি মরুভূমিতে (১) যতদূর চোখ যায় শুধু বালি আর বালি। মাঝে কোথাও কোথাও উঁচু পাথুরে টিলা কিংবা শুকিয়ে যাওয়া লতাগুল্ম চোখে পড়ে। জীবন এখানে কঠিন। মরুচারী গোত্রগুলোকে তাই প্রায়ই খাবারের সন্ধানে জায়গা বদল করতে হয়। গ্রীষ্মকালে এখানে আগুন ঝরায় সূর্য। পায়ের নিচে বালি তেতে ওঠে। বইতে থাকে লু হাওয়া। আবার শীতে উত্তর থেকে শুরু হয় শৈত্যপ্রবাহ। বসন্তকাল এখানে বয়ে আনে সুসময়। মাদী ঘোড়া আর গাভীগুলো তখন হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠে। নিয়মিত দুধ দেয়। এ সময় পর্যাপ্ত শিকারের দেখাও…

দিল্লি জ্বলছে। কুতুবুদ্দিন আইবেকের দিল্লি জ্বলছে। যে দিল্লিতে একদিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ, সেই দিল্লিতে আজ আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে অশোকনগরের মসজিদ। পুড়ে গেছে মসজিদের সদর দরজা। মাটিতে পড়ে আছে ছিন্নভিন্ন মুসহাফ। কুতুব মিনারের শহরে আজ মসজিদের মিনারে উড়ছে হনুমানের পতাকা। দিল্লি জ্বলছে। দিল্লিকে লোকে সম্মান করে বলতো হজরত দিল্লি। আমির খসরু এই শহরকে বলতেন জান্নাতে আদন। ইসামি এই শহরের মাটিকে বলেছিলেন, কিবরিতে আহমার। হজরত দিল্লির উপর বারবার আঘাত এসেছে। তৈমুর লঙ ও নাদের শাহের আক্রমন, ইংরেজদের…

সদ্যপ্রয়াত হাল যামানার মিসরী আলিম শায়েখ মুহাম্মাদ ইমারাহ প্রতিকৃতির বিষয়ে বলেন, ’সাহাবায়ে কিরাম বিজিত দেশগুলোর উপাস্য নয়, এমন প্রতিকৃতিকে রেখে দিতেন। উমার (টাইপিং মিসটেক। আমর হবে) ইবনুল আস রা. মিসর জয় করেন। কিছু মূর্তি ভেঙ্গে কিছু রেখে দেন। কারণ, ওগুলো উপাস্য ছিল না। এবং মিসরের খ্রিস্টানরা এগুলোর উপাসনা করতো না। এটা মুসলিম সৈন্যবাহিনীর বিশ্বাসের জন্য হুমকি হওয়ার আশংকা ছিল না।’ (আল ইসলাম ওয়াল ফুনুনুল জামিলাহ) (১) – মুহাম্মদ ইমারাহর এই উদ্ধৃতিটি শরয়ী ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রথমে…

শুক্রবারে সাধারণত কাজকর্ম অফ রাখি। কিছুটা হালকা সময় কাটাতে চেষ্টা করি। আজ বিকালে একটা টকশো দেখছিলাম। টকশো অনুষ্ঠানটি গত সপ্তাহে প্রচারিত হয়েছে। টকশোতে তিন ধর্মের তিনজন আলোচক ছিলেন। টকশোর মূল প্রতিপাদ্য ছিল কীভাবে ধর্মীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি গড়ে তোলা যায়। হিন্দু ধর্মের একজন কোরআনুল কারিমের সুরা কাফেরার (!?) দলিল দিলেন, তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমাদের ধর্ম আমাদের। এরপর তিনি প্রস্তাব দিলেন অন্য ধর্মের মৌলিক কথা ও ইতিবাচক শিক্ষা যেন মসজিদের মিম্বরেও প্রচার করা হয়, কাউকে যেন আঘাত করা না হয়, একইসাথে…

কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় ইতিহাসচর্চার একটা জাগরণ হয়েছে বলে ধরা যায়। এ সময় ইতিহাস বিষয়ে প্রচুর বইপত্র অনুবাদ হয়েছে, মৌলিক গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে। সামনেও ইতিহাস নিয়ে বিস্তৃত কলেবরের বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ইতিহাস নিয়ে লিখিত বইপত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে পাঠের ক্ষেত্রে কিছুটা শূন্যতা দেখা যাচ্ছে। এই শূন্যতা হলো গুরুত্বের বিচারে বিষয় নির্ধারণের শূন্যতা। কোন বিষয়টি আগে জানা প্রয়োজন, কোন বিষয়টি বেশি জানা প্রয়োজন, জানার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা কী হবে এগুলো ঠিক…

পূর্বকথন ইতিহাস-পাঠের ক্ষেত্রে একজন সচেতন পাঠকের প্রথম আগ্রহ থাকে এমন কোনো বইয়ের প্রতি যেখানে এক মলাটে ইসলামের পুরো ইতিহাস পাওয়া যাবে। এর মূল কারণ হলো, মাসাদির বা মূল উৎসগুলোর বিস্তৃত কলেবরের মধ্যে দিয়ে ইতিহাসের মূল কাঠামোটা আবিষ্কার করা বেশ কষ্টসাধ্য। অপরদিকে এসব গ্রন্থে ইসলামের পুরো ইতিহাসও নেই। কারণ ঐতিহাসিকরা তাদের সময় পর্যন্ত ঘটনাবলীর ইতিহাস লিখেছেন। পরের সময়কালে কী ঘটেছে তা লিখেননি। ইবনু জারির তাবারির ইন্তেকাল ৩১০ হিজরীতে, ইবনুল আসির জাযারির ইন্তেকাল ৬৩০ হিজরীতে, ইবনু কাসিরের ইন্তেকাল ৭৭৪ হিজরীতে, ইমাম যাহাবীর…

১. ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২। ফয়সালাবাদ, পাকিস্তান। সিপাহে সাহাবার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পয়গাম্বরে ইনকিলাব কনফারেন্স। শুরু থেকেই পরিস্থিতি থমথমে। সভাস্থলের পাশেই শিয়াদের ইমামবাড়া। শিয়ারা হুমকি দিয়েছিল, সিপাহে সাহাবার অনুষ্ঠানে শিয়াদের ব্যাপারে কোনো কথা বলা যাবে না। ইরানের শিয়া বিপ্লব নিয়েও চুপ থাকতে হবে। এর অন্যথা হলে তারা আক্রমন করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। এশার নামাজের পর মঞ্চে উঠলেন একজন তরুণ আলেম। ত্রিশের কোঠায় বয়স। তিনি সাহাবায়ে কেরামের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। শিয়াদের লিখিত…

হাজার বছর আগে… মুসলিম পর্যটক ও ভূগোলবিদরা তখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন মুসলিম বিশ্বের আনাচে কানাচে। তাদের লেখায় তারা তুলে ধরেছিলেন সেসময়কার মুসলিমদের জীবনযাত্রা ও শহরগুলির বিবরণ। আবু মুহাম্মদ আল হাসান হামদানি, আবুল কাসিম ইবনু হাওকাল, আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনু খোরদাদবেহ, মুহাম্মদ ইবনু আহমাদ শামসুদ্দিন আল মাকদিসি প্রমুখের লেখায় আমরা পাই সে সময়কার এক নিখুঁত বিবরণ। তারা লিখেছেন, মুসলমানরা তাদের শহরগুলিতে প্রচুর উদ্যান ও নহর নির্মাণ করত। শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যেত এসব নহর (লেক)। পাশেই থাকতো মনোরম উদ্যান। বিকেল কিংবা অবসরে…