Category

ইতিহাস

Category

দিল্লি জ্বলছে। কুতুবুদ্দিন আইবেকের দিল্লি জ্বলছে। যে দিল্লিতে একদিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ, সেই দিল্লিতে আজ আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে অশোকনগরের মসজিদ। পুড়ে গেছে মসজিদের সদর দরজা। মাটিতে পড়ে আছে ছিন্নভিন্ন মুসহাফ। কুতুব মিনারের শহরে আজ মসজিদের মিনারে উড়ছে হনুমানের পতাকা। দিল্লি জ্বলছে। দিল্লিকে লোকে সম্মান করে বলতো হজরত দিল্লি। আমির খসরু এই শহরকে বলতেন জান্নাতে আদন। ইসামি এই শহরের মাটিকে বলেছিলেন, কিবরিতে আহমার। হজরত দিল্লির উপর বারবার আঘাত এসেছে। তৈমুর লঙ ও নাদের শাহের আক্রমন, ইংরেজদের…

সদ্যপ্রয়াত হাল যামানার মিসরী আলিম শায়েখ মুহাম্মাদ ইমারাহ প্রতিকৃতির বিষয়ে বলেন, ’সাহাবায়ে কিরাম বিজিত দেশগুলোর উপাস্য নয়, এমন প্রতিকৃতিকে রেখে দিতেন। উমার (টাইপিং মিসটেক। আমর হবে) ইবনুল আস রা. মিসর জয় করেন। কিছু মূর্তি ভেঙ্গে কিছু রেখে দেন। কারণ, ওগুলো উপাস্য ছিল না। এবং মিসরের খ্রিস্টানরা এগুলোর উপাসনা করতো না। এটা মুসলিম সৈন্যবাহিনীর বিশ্বাসের জন্য হুমকি হওয়ার আশংকা ছিল না।’ (আল ইসলাম ওয়াল ফুনুনুল জামিলাহ) (১) – মুহাম্মদ ইমারাহর এই উদ্ধৃতিটি শরয়ী ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রথমে…

শুক্রবারে সাধারণত কাজকর্ম অফ রাখি। কিছুটা হালকা সময় কাটাতে চেষ্টা করি। আজ বিকালে একটা টকশো দেখছিলাম। টকশো অনুষ্ঠানটি গত সপ্তাহে প্রচারিত হয়েছে। টকশোতে তিন ধর্মের তিনজন আলোচক ছিলেন। টকশোর মূল প্রতিপাদ্য ছিল কীভাবে ধর্মীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি গড়ে তোলা যায়। হিন্দু ধর্মের একজন কোরআনুল কারিমের সুরা কাফেরার (!?) দলিল দিলেন, তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমাদের ধর্ম আমাদের। এরপর তিনি প্রস্তাব দিলেন অন্য ধর্মের মৌলিক কথা ও ইতিবাচক শিক্ষা যেন মসজিদের মিম্বরেও প্রচার করা হয়, কাউকে যেন আঘাত করা না হয়, একইসাথে…

কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় ইতিহাসচর্চার একটা জাগরণ হয়েছে বলে ধরা যায়। এ সময় ইতিহাস বিষয়ে প্রচুর বইপত্র অনুবাদ হয়েছে, মৌলিক গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে। সামনেও ইতিহাস নিয়ে বিস্তৃত কলেবরের বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ইতিহাস নিয়ে লিখিত বইপত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে পাঠের ক্ষেত্রে কিছুটা শূন্যতা দেখা যাচ্ছে। এই শূন্যতা হলো গুরুত্বের বিচারে বিষয় নির্ধারণের শূন্যতা। কোন বিষয়টি আগে জানা প্রয়োজন, কোন বিষয়টি বেশি জানা প্রয়োজন, জানার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা কী হবে এগুলো ঠিক…

হাজার বছর আগে… মুসলিম পর্যটক ও ভূগোলবিদরা তখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন মুসলিম বিশ্বের আনাচে কানাচে। তাদের লেখায় তারা তুলে ধরেছিলেন সেসময়কার মুসলিমদের জীবনযাত্রা ও শহরগুলির বিবরণ। আবু মুহাম্মদ আল হাসান হামদানি, আবুল কাসিম ইবনু হাওকাল, আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনু খোরদাদবেহ, মুহাম্মদ ইবনু আহমাদ শামসুদ্দিন আল মাকদিসি প্রমুখের লেখায় আমরা পাই সে সময়কার এক নিখুঁত বিবরণ। তারা লিখেছেন, মুসলমানরা তাদের শহরগুলিতে প্রচুর উদ্যান ও নহর নির্মাণ করত। শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যেত এসব নহর (লেক)। পাশেই থাকতো মনোরম উদ্যান। বিকেল কিংবা অবসরে…

মৃত্যুর আগে খলিফা মামুনের অসিয়ত ছিল, যেভাবেই হোক বিদ্রোহী বাবাক খুররামিকে শায়েস্তা করতে হবে। মামুন নিজে বহুবছর চেষ্টা করেছেন বাবাককে দমন করতে, কিন্তু তিনি সফল হননি, বরং হারিয়েছেন নিজের বিখ্যাত সেনাপতিদের অনেককে। পরবর্তী খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহ শাসনক্ষমতা পেয়েই বাবাকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে থাকেন। ২২২ হিজরির দিকে বাবাক কোণঠাসা হয়ে যায়। সে রোমান সম্রাট তোফাইল বিন মিখাইলকে পত্র লিখে আব্বাসি সাম্রাজ্যে হামলার আহ্বান করে। বাবাকের পত্রের ভাষ্য ছিল এমন–‘খলিফার বাহিনী এখন আমাকে নিয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগ কাজে…

শাকহাবের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৭০২ হিজরির ২ রমাদানে। খ্রিস্টিয় হিসেবে সময়টা ছিল ২০ এপ্রিল ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দ। যুদ্ধের পটভূমির সূচনা হয় ৭০২ হিজরির রজব মাসে, যখন হালাব থেকে কায়রোতে একটি পত্র আসে। এই পত্র এসেছিল সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের নামে। পত্রে লেখা ছিল, তাতারসম্রাট মাহমুদ গাযান তার বাহিনী নিয়ে সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউন পত্র পড়ে চিন্তিত হলেন। মাহমুদ গাযান তাতার ইলখানাতের সম্রাট। তিন বছর আগে থার্ড ব্যাটল অব হোমসে মামলুক বাহিনী পরাজিত হয়েছিল মাহমুদ গাযানের…

বাসায় ফেরার পথে শুনলাম পাশে কোথাও ওয়াজ হচ্ছে। একবার ভাবলাম যাবো, পরে আবার মত বদলাই। কদিন ধরে জ্বরে ভুগছি। শরীর বেশ দূর্বল। এই ভেবে আর গেলাম না। এক সময় প্রচুর ওয়াজ শুনেছি। অন্তত এদেশের প্রসিদ্ধ বক্তাদের কারো ওয়াজ শোনা বাকি নেই। সবচেয়ে ভালো লাগতো শীতকালে, গ্রামাঞ্চলে ওয়াজ শুনতে। মামাতো ভাইদের সাথে দলবেধে তিন চার মাইল দূরে চলে যেতাম ওয়াজ শুনতে। শেষ বিকেলে নামতো হালকা কুয়াশা। ফসলের মাঠে পেরিয়ে দুরের গ্রামগুলো ঝাপসা হয়ে যেত। খালের পানিতে মৃদু আলোড়ন। আমরা মাটির রাস্তা…

ইতিহাস কী ও কেন? প্রশ্নটা মাথার ভেতর ঘুরঘুর করছিল অনেকদিন থেকেই। ইতিহাস বলতে আমরা বুঝি অতীতের ঘটনাবলীর বিবরণ, রাজাগজাদের কেচ্ছাকাহিনী। কিন্তু ইতিহাস বলতে আসলে কী বোঝায়? ঐতিহাসিকরা ইতিহাস বলতে কী বোঝেন? বিষয়টা ভাবাচ্ছিল। ইতিহাসের সংজ্ঞা জানতে দারস্থ হই ইবনে খালদুনের (১)। ভেবেছিলাম ইবনে খালদুন ভারিক্কি চালে ভাবগম্ভীর কোনো সংজ্ঞা দিবেন। নাহ, তিনি দেখি সাদাসিধে ভাবেই লিখেছেন, ইতিহাস মূলত অতীতকালের ঘটনাবলী ও রাষ্ট্রসমূহের বিবরণ। (২) ইবনে খালদুনের সংজ্ঞা পাওয়ার পর আর কোনো সংজ্ঞা না দেখলেও চলে। তবু মনে একটু খুঁতখুঁত তো…

আমবাগানের ভেতর দিয়ে একটা পায়ে হাটা পথ চলে গেছে । তালহা ভাই বললেন, মাদরাসাটা এদিকেই। আমরা বাগানের ভেতর ঢুকি। এখন আমের মৌসুম। প্রচুর আম ধরেছে। বাতাসে কেমন একটা অচেনা সুবাস। বাতাস স্থির হয়ে আছে। আজ খুব গরম পড়ছে, দরদর করে ঘামছি সবাই, ঘামের স্রোত গলা থেকে বুকের দিকে নেমে যায়, মনে হচ্ছে জামার ভেতর তেলাপোকা হাটছে। জায়গাটা নির্জন, আশপাশে বাড়িঘরও নেই, দূরে মাঠে একজন কৃষককে কাজ করতে দেখা যায়, তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় শালিক পাখি। একটু দূরে, গাছের…