Category

ইতিহাস

Category

ইতিহাস কী ও কেন? প্রশ্নটা মাথার ভেতর ঘুরঘুর করছিল অনেকদিন থেকেই। ইতিহাস বলতে আমরা বুঝি অতীতের ঘটনাবলীর বিবরণ, রাজাগজাদের কেচ্ছাকাহিনী। কিন্তু ইতিহাস বলতে আসলে কী বোঝায়? ঐতিহাসিকরা ইতিহাস বলতে কী বোঝেন? বিষয়টা ভাবাচ্ছিল। ইতিহাসের সংজ্ঞা জানতে দারস্থ হই ইবনে খালদুনের (১)। ভেবেছিলাম ইবনে খালদুন ভারিক্কি চালে ভাবগম্ভীর কোনো সংজ্ঞা দিবেন। নাহ, তিনি দেখি সাদাসিধে ভাবেই লিখেছেন, ইতিহাস মূলত অতীতকালের ঘটনাবলী ও রাষ্ট্রসমূহের বিবরণ। (২) ইবনে খালদুনের সংজ্ঞা পাওয়ার পর আর কোনো সংজ্ঞা না দেখলেও চলে। তবু মনে একটু খুঁতখুঁত তো…

আমবাগানের ভেতর দিয়ে একটা পায়ে হাটা পথ চলে গেছে । তালহা ভাই বললেন, মাদরাসাটা এদিকেই। আমরা বাগানের ভেতর ঢুকি। এখন আমের মৌসুম। প্রচুর আম ধরেছে। বাতাসে কেমন একটা অচেনা সুবাস। বাতাস স্থির হয়ে আছে। আজ খুব গরম পড়ছে, দরদর করে ঘামছি সবাই, ঘামের স্রোত গলা থেকে বুকের দিকে নেমে যায়, মনে হচ্ছে জামার ভেতর তেলাপোকা হাটছে। জায়গাটা নির্জন, আশপাশে বাড়িঘরও নেই, দূরে মাঠে একজন কৃষককে কাজ করতে দেখা যায়, তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় শালিক পাখি। একটু দূরে, গাছের…

মূল: আব্দুস সালাম নদভী অনুবাদ: ইমরান রাইহান ভারতবর্ষের মুসলিম শাসকরা নানাভাবে জনকল্যাণের দিকে খেয়াল রাখতেন। তাদের এমনই কিছু্ উদ্যোগ নিয়ে এই প্রবন্ধ। হাসপাতাল মুসলিম শাসকদের মধ্যে ফিরোজ শাহ তুঘলক (সিংহাসন আরোহণকাল ৭৫২ হিজরী) সর্বপ্রথম একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। এই হাসপাতালকে তখন সিহহত খানা বলা হতো। সুলতান এই হাসপাতালের জন্য কয়েকজন চিকিৎসক নিয়োগ দেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকেই রোগীদের ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হতো। হাসপাতালের ব্যয় বহনের জন্য সুলতান বেশকিছু জমি ওয়াকফ করে দেন। (১) তারীখে ফিরোজশাহীতে শুধু এই একটি হাসপাতালের উল্লেখ আছে।…

মূল: আবু জাফর নদভী ভাষান্তর: ইমরান রাইহান আজকাল ভারতবর্ষে যে হারে কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে তা দেখে কেইবা ভাববে এক যুগে এখানে কাগজের প্রচলনই ছিল না। ভারতবর্ষের বেশিরভাগ এলাকায় কাগজের পরিবর্তে অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করা হতো। লেখালেখির প্রয়োজন হলে ভুজ পাথর, খেজুরের পাতা, তাল গাছের পাতা, রেশমী কাপড়, তামা ইত্যাদীর উপর লেখা হতো। পাথরের উপর লেখা সম্রাট অশোকের একটি ফরমান এখনো টিকে আছে। মুম্বাই মিউজিয়ামে আছে তামার উপর লেখা একটি পত্র। এ বিষয়ে ঐতিহাসিকরাও উল্লেখ করেছেন। ইবনে নাদীম লিখেছেন, আরবরা সাধারনত…

মসুলে একটি লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আবুল কাসেম জাফর বিন হামদান মোসুলি (মৃত্যু ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী। তার লাইব্রেরীতে দর্শন ও জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত প্রচুর বই ছিল। লাইব্রেরী প্রতিদিন খোলা হতো। দূর থেকে আসা লোকদের জন্য ছিল থাকার ব্যবস্থা। একটা নির্দিষ্ট স্থান ছিল, যেখানে আবুল কাসেম জাফর ইমলার দরস দিতেন তার লিখিত বইপত্র (যেমন আল বাহের ফিল আখবার) , ফিকহ, কবিতা ও ইতিহাসের ঘটনাবলী থেকে। শুধু আবুল কাসেম জাফরই নন, এমন গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুসলিম শাসক, আমীর ও আলেম-উলামাদের অনেকেই।…

মূল: খাজা হাসান নিজামী অনুবাদ: ইমরান রাইহান (খাজা হাসান নিজামির জন্ম দিল্লীতে, ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে। জন্মের পর তার নাম রাখা হয় আলী হাসান নিজামি। তবে পরে তিনি খাজা হাসান নিজামি নামেই প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একাধারে সুফী দার্শনিক, কবি, ঐতিহাসিক, সম্পাদক ও সাহিত্যিক। তার শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভী, মুফতি এলাহি বখশ কান্ধলভী, মুফতি রশিদ আহমদ গাংগুহি। খাজা হাসান নিজামির বাল্যকাল কেটেছে ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘল শাহজাদাদের সাথে। তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেন ১৮৫৭ সালের ইতিহাস জানতে। ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘলদের নিয়ে রচিত…

মূল : শায়খ আবদুল হাই হাসানি নদভী রুপান্তর : ইমরান রাইহান (প্রথম পর্ব) ভারতবর্ষে বরাবরই ইতিহাসচর্চায় আগ্রহ- উদ্দীপনা ছিল। এখানকার লেখকরা তাই রাজন্যবর্গের শাসনকাল ও তাদের যুদ্ধ-বিগ্রহের ইতিহাস সংরক্ষনে কলম ধরেছেন। তারা আলেম, সুফী, কবি, চিকিৎসকদের জীবনি নিয়েও বইপত্র লিখেছেন, যদিও জন্মতারিখ ও মৃত্যুতারিখ উল্লেখের ক্ষেত্রে তারা বরাবরই উদাসীন ছিলেন। তারা লিখেছেন বেশী ফার্সিতে, হিন্দিতেও কম লিখেন নি, এমনকি লিখেছেন আরবীতেও। এ সকল বইপত্রের এক বিরাট অংশই লেখা হয়েছে শাসকদের জীবনি ও শাসনকাল নিয়ে। চলুন এ ধারার কিছু গ্রন্থের নাম…

১ দিল্লীর পথে হাটছিলেন পথিক। মাইলের পর মাইল নির্জন ধু ধু প্রান্তর। মাথার উপর আগুন ঝরাচ্ছে সূর্য। বইছে লু হাওয়া। দুপুরে গিয়াসপুর পৌছালেন পথিক। কবছর আগেও এখানে তেমন জনসমাগম ছিল না। কিন্তু কিছুদিন আগে এক দরবেশ এখানে খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারপর থেকে বাড়ছে জনতার আনাগোনা। এই দরবেশের সাথে দেখা করতে সবাই ব্যাকুল। এমনকি শোনা যায় দিল্লীর সুলতান জালালুদ্দিন খিলজিও দরবেশের সাথে সাক্ষাত করতে চেয়েছেন কিন্তু দরবেশ অনুমতি দেন নি।খানকাহ প্রতিষ্ঠার পর এদিকে এবারই প্রথম আসা। পথিক ভাবলেন ঢু মেরে আসা…

মূল : গোলাম রসুল মেহের অনুবাদ: ইমরান রাইহান (লেখক পরিচিতি : গোলাম রসুল মেহেরের জন্ম ১৩ এপ্রিল ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে , ভারতের জলান্ধরে। জলান্ধর মিশন হাই স্কুল ও লাহোর ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। ব্যক্তিজীবনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলেন।গালিব ও ইকবাল নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘জামাতে মুজাহেদিন’ ‘নকশে আজাদ’ ‘মেহের বিতী’ ‘গালিব’ ‘মাতালিবে বালে জিব্রিল’। ১৬ নভেম্বর ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে তিনি লাহোরে ইন্তেকাল করেন) প্রারম্ভিকা ১৮৫৭ সালে দিল্লীর প্রতিটি ঘটনাই ছিল মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। তবে শাহজাদাদের নির্মম হত্যাকান্ড…

ইবনে নাদীম, বিস্ময়কর আল ফিহরিস্ত বইয়ের লেখক, যার পুরো নাম আবুল ফারাজ মোহাম্মদ বিন ইসহাক আন নাদীম, তিনি ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ ওয়াররাক। আমাদের পরিচিত আরো অনেকেইওয়াররাক ছিলেন। বিখ্যাত বুজুর্গ মালেক ইবনে দীনারের কথাই ধরা যাক। ১৩১ হিজরীতে মৃত্যুবরনকারী এই মনিষীও ওয়াররাক ছিলেন। ইয়াকুত হামাভী, হিজরী ষষ্ঠ শতাব্দীর বিখ্যাত মুসলিম ভূগোলবিদ, যিনি মুজামুল বুলদানের লেখক, তিনিও ছিলেন ওয়াররাক। ওয়াররাকদের নামের তালিকা অনেক দীর্ঘ। সে তালিকায় যাওয়ার আগে জেনে নেয়া যাক , ওয়াররাকদের পরিচয় । ইবনে খালদুন ওয়াররাকদের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে ,…