Category

পূর্বসূরী

Category

১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের মার্চে উমর মুখতার মিসর সফর করেন। এই সফরে তার সংগী ছিলেন আলি পাশা উবাইদি। সেসময় উমর মুখতারের একের পর এক হামলার কারনে ইতালিয়ানরা নির্বিঘ্নে রাতে ঘুমাতেও পারছিল না। মুজাহিদদের কাছে অস্ত্র ছিল খুবই কম, যা ছিল তাও পুরনো মান্ধাতা আমলের। তারা লড়ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে। সংখ্যায় তারা ছিল কম, তবুও তারা নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছিল ইতালিয়ানদের। ইতালিয়ানরা বুঝতে পারছিল মুজাহিদদের নেতৃত্বে আছেন উমর মুখতার। তাকে কাবু করতে পারলেই যুদ্ধ অর্ধেক জেতা হয়ে যাবে। উমর মুখতার মিসরে অবস্থান…

মে, ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ। চল্লিশ হাজার ব্রিটিশ সেনা ছাউনি ফেললো ওয়াজিরিস্তানের গির‍য়াওম এলাকায়। শাম নালার পাশে খোলা ময়দানে অবস্থান নিল ব্রিটিশ সেনারা। সাধারণত, ওয়াজিরিস্তানে বর্ষা শুরু হয় জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টের শুরুতে। আবহওয়া নিয়ে তাই ব্রিটিশ সেনারা নিশ্চিন্ত ছিল। নদীর ভাটিতে অবস্থান করছিলেন ব্রিটিশদের শত্রু একজন উপজাতী নেতা। তার সাথে সেনাসংখ্যা ছিল চারশোরও কম। জনপ্রতি একটি রাইফেলের বেশি কোনো অস্ত্র ছিল না। এপাশে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত চল্লিশ হাজার ব্রিটিশ সেনা। ব্রিটিশ কমান্ডার প্রতিনিধি পাঠালেন উপজাতি নেতার কাছে। ‘এখনোও সুযোগ আছে আত্মসমর্পন…

৬৯৯ হিজরী। তাতার সম্রাট মাহমুদ গাযান ৬০ হাজার সৈন্যসহ ফুরাত নদী অতিক্রম করে এগিয়ে গেল সিরিয়ার দিকে। আরো একবার অস্ত্রের ঝনঝনানি ও আহতদের আর্তচিৎকার শোনার প্রহর গুনছিল মুসলিম বিশ্ব। দামেশকে শুরু হয় বুখারির খতম। মসজিদে , মকতবে চলতে থাকে দোয়া। ইতিমধ্যে মাহমুদ গাযানের বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ হয়েছে সুলতান নাসির মাহমুদ বিন কালাউনের বাহিনীর। পরাজিত হয়েছে সুলতানের বাহিনী। নিহত হয়েছে আমীর ও সাধারণদের অনেকে। সুলতান নিজে কোনোমতে পালিয়ে বেচেছেন। সে সময় একজন আলেম বললেন, আমি মাহমুদ গাযানের সাথে দেখা করবো। দামেশকের…

দিল্লি। সুলতান আলাউদ্দিন খলজি দরবারে ডেকেছেন বিশিষ্ট আলেম কাজি মুগিসউদ্দিনকে। ‘আমি দেবগিরিতে হামলা করে যেসকল সম্পদ পেয়েছি তা আমার নিজের কাছেই রেখেছি। এটা কি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেয়ার প্রয়োজন আছে?’ (১) প্রশ্ন করলেন সুলতান। ‘এই হামলায় অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের সেনাদের দ্বারাই অর্জিত হয়েছে। তাই এই সম্পদ অবশ্যই বাইতুল মালে (কোষাগার) জমা দিতে হবে’ কাজি সাহেব দৃঢ়কন্ঠে বললেন। ‘এ কেমন কথা? এই অভিযানে আমি নিজের জান বাজি রেখে লড়েছি। এটা ছিল এমন এক স্থান যার কথা এর আগে দিল্লির লোকেরা জানতেও পারেনি’…

১৪৯১ খ্রিস্টাব্দ। তৃতীয়বারের মতো গ্রানাডা অবরোধ করেছেন ক্যাস্টোলার শাসক পঞ্চম ফার্ডিন্যান্ড। শেষবারের মত অস্তিত্বরক্ষার লড়াইয়ে নামলো গ্রানাডাবাসী। তরুণরা সিদ্ধান্ত নিলো শরীরের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত তারা খ্রিস্টানবাহিনীর মোকাবিলা করবে। এই সময়ে তরুণদের নেতৃত্বে ছিলেন মুসা বিন আবী গাসসান। তিনি দীপ্তকন্ঠে ঘোষণা দেন, খ্রিস্টান সম্রাট জেনে রাখুক, আরবদের জন্মই হয়েছে বর্ষা নিক্ষেপ ও ঘোড়ায় আরোহণের জন্য। শত্রুদের বিলাসবহুল প্রাসাদে অবস্থান করার চেয়ে তাদেরকে প্রতিরোধ করে গ্রানাডার কোনো ভগ্নদেয়ালের নিচে নিজের কবর নির্ধারণ করা আমার কাছে অধিক প্রিয়। (১) — শুরু হলো…

১৩। এক অচেনা বীরের গল্প তার জন্মসাল সম্পর্কে ইতিহাস নীরব। জানা যায়নি কোথায় এবং কবে তার জন্ম। তিনি কোনো গোত্রপতি ছিলেন না। ছিলেন না সম্ভ্রান্ত পরিবারের কোনো আদুরে দুলাল। এতদূর জানা যায়, তার বাল্যকাল কেটেছে শহরের ফটকে ভিক্ষা করে। কিছুদিন লোকদের পানি পান করিয়ে উপার্জন করেন। পরে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। তাকে প্রথম দেখা যায়, ৭০১ খ্রিস্টাব্দে। আবদুর রহমান বিন মোহাম্মদ বিন আশআসের বিরুদ্ধে লড়ছেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পক্ষ হয়ে। তার সাহসিকতা ও রণদক্ষতার প্রশংসা করেছেন তাবারী। পরের বছরগুলিতে তিনি হারিয়ে…

১। তউস ইবনে কায়সানের দুনিয়া বিমুখতা তউস ইবনে কায়সান রহিমাহুল্লাহ। ইয়ামানের এই তাবেয়ী উম্মুল মুমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা (রা) ও আবু হুরায়রা (রা) থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি ছিলেন দুনিয়া বিমুখ এক মনিষী। শাসকদের কাছে ঘেঁষা অপছন্দ করতেন। সত্য বলায় ছিলেন নির্ভীক। কারো প্রভাব প্রতিপত্তি দ্বারা প্রভাবিত হতেন না। # মুহাম্মদ বিন ইউসুফ। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ভাই। ইয়ামানের গভর্নর। এক অনুচরের হাতে ৫০০ দিনার দিয়ে বললেন, এটা তউস ইবনে কায়সানের হাতে দিয়ে আসো। যদি তাকে এই দিনারগুলো গ্রহণ করাতে পারো তাহলে…

মূল : শায়খ হাবিবুর রহমান আজমী রহ. রুপান্তর : ইমরান রাইহান ১। সুলতান শামসুদ্দিন আলতামাশ ৬০৭ হিজরী থেকে ৬৩৩ হিজরী পর্যন্ত ভারতবর্ষ শাসন করেন। খাজা কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার কাকীর মালফুজাত ‘ফাওয়ায়েদুস সালেকিনে’ তার প্রশংসা করা হয়েছে।ফা ওয়ায়েদুস সালেকিনের ভাষ্যমতে, তিনি সআধারণত রাতে ঘুমাতেন না। কখনো ঘুম এলে একটু পরেই সজাগ হয়ে যেতেন। উঠে অযু করে নামাজ পড়তেন। চাকর-বাকর কাউকে ডাকতেন না। বলতেন, যারা আরামের ঘুমে আছে তাদের কষ্ট দেয়ার কী দরকার? কখনো কখনো রাতের বেলা আশরাফী ভর্তি থলে নিয়ে রাজধানীর অলিগলিতে…

একজন আলেম শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন এ সংবাদ শুনে ঘরবাড়ি ছেড়ে তার পিছু নিয়েছে শহরবাসী। জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। অবিশ্বাস্য এই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল মিসরে। ৮০০ বছর আগে। — মিসরে তখন আল মালিকুস সালিহ নাজমুদ্দিন আইয়ুবের শাসনকাল। সেসময় মিসরের প্রশাসনে মামলুকদের কর্তৃত্ব বাড়ছিল। আরবীতে মামলুক বলা হয় গোলাম বা দাসকে। আইয়ুবী শাসনামলে আমীর ও সুলতানরা যুদ্ধের জন্য মামলুকদের উপর ভরসা রাখতেন। তাদের দেয়া হতো উচ্চতর প্রশিক্ষণ। মামলুকদের আরবী শেখানো হতো। ফিকহের প্রাথমিক শিক্ষা দেয়া হত। সাধারণত এই মামলুকদের সংগ্রহ…