অনুবাদ

সবুজ পোষাকের বীরাঙ্গনা ও ভিখারি শাহজাদা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr
মূল: খাজা হাসান নিজামী
অনুবাদ: ইমরান রাইহান
(খাজা হাসান নিজামির জন্ম দিল্লীতে, ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে। জন্মের পর তার নাম রাখা হয় আলী হাসান নিজামি। তবে পরে তিনি খাজা হাসান নিজামি নামেই প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একাধারে সুফী দার্শনিক, কবি, ঐতিহাসিক, সম্পাদক ও সাহিত্যিক। তার শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভী, মুফতি এলাহি বখশ কান্ধলভী, মুফতি রশিদ আহমদ গাংগুহি।
খাজা হাসান নিজামির বাল্যকাল কেটেছে ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘল শাহজাদাদের সাথে। তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেন ১৮৫৭ সালের ইতিহাস জানতে। ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘলদের নিয়ে রচিত তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ বেগমাত কে আসু প্রকাশিত হলে হৈ চৈ পড়ে যায়। ১৯৪৪ সালে লেখকের জীবদ্দশাতেই বইটির ত্রয়োদশ সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থ ফাতেমি দাওয়াতে ইসলাম, ইংরেজো কি পিতা , বাহাদুর শাহ কা মুকাদ্দামা, দিহলি কি জাঁ কুনি, দিহলি কি সাজা। ৩১ জুলাই ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লীতে ইন্তেকাল করেন।)
সবুজ পোষাকের বীরাঙ্গনা
দিল্লীর যেসকল বৃদ্ধ ১৮৫৭ তে যুবক ছিলেন তারা এক সবুজ পোষাক পরিহিতা রমনীর গল্প করেন। বিদ্রোহের সময়টায় ইংরেজ বাহিনী টিলার উপর ক্যাম্প করেছিল। কাশ্মিরী দরজার দিক থেকে তারা শহরের বাজারে গুলি চালাতো। সেসময় সবুজ পোষাক পরিহিতা এক বৃদ্ধা মহিলা শহরের বাজারে গিয়ে উচ্চস্বরে বলতেন, চলো, আল্লাহ তোমাদের জান্নাতে ডেকেছেন।
তার কথা শুনে অনেকেই তার সাথে একত্রিত হতো। মহিলা সবাইকে নিয়ে কাশ্মিরী দরজার দিকে যেতো এবং ইংরেজদের উপর হামলা চালাতো। সকাল থেকে সন্ধ্যা যুদ্ধ চলতো।
যারা স্বচক্ষে এই লড়াই দেখেছে তারা বলে, এই নারী ছিল অসম সাহসী ও নির্ভিক। মৃত্যুর ভয় তার ছিলই না। গুলিবৃষ্টির মধ্যেও সে সাহসি সিপাহিদের মতো সামনে এগিয়ে যেত। কখনো পায়ে হেটে, কখনো ঘোড়ায় চড়ে। তার হাতে থাকতো একটি বন্দুক, তলোয়ার ও একটি পতাকা। বন্দুক চালানোয় তার বেশ দক্ষতা ছিল। তার সাথে চলেছে এমন একজনের ভাষ্যমতে তলোয়ার চালানোতেও সে দক্ষ ছিল। অনেকবার সে সেনাদের সাথে তলোয়ার নিয়ে সামনাসামনি লড়েছে। এই নারীর বীরত্ব ও সাহসিকতা দেখে শহরবাসী উদ্দিপ্ত হতো এবং তারাও এগিয়ে এসে লড়াই করতো। তবে যেহেতু কারোই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল না তাই প্রায়ই তাদের পালাতে হতো। তারা পালাতে চাইলে এই নারী তাদের বাধা দিতো কিন্তু শেষে তাকেও সরতে হতো। কেউ জানতো না এই মহিলা কোথেকে আসে আর কোথায় যায়।
এভাবে একদিন এমন হল যে সে উত্তেজনার চোটে আক্রমন চালাতে চালাতে ইংরেজদের ঘাটি পর্যন্ত পৌছে গেল। এক পর্যায়ে আঘাত পেয়ে সে ঘোড়া থেকে পরে যায়। সেনারা তাকে গ্রেফতার করে। তারপর তার কোনো হদিশ মেলেনি। কেউ জানে না তার কী হয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লী সরকার কিছু ইংরেজি পত্র প্রকাশ করেছে যা দিল্লী অবরোধের সময় ইংরেজ অফিসাররা লিখেছিল। এর মধ্যে একটি চিঠি আছে যার লেখক লেফট্যান্যাট উইলিয়াম হাডসন। দিল্লী ক্যাম্প থেকে ২৯ জুলাই ১৮৫৭ তারিখে লিখিত এই চিঠি পাঠানো হয়েছিল আম্বালার ডেপুটি কমিশনার মিস্টার যে গিলসন ফরসাইথের কাছে। সেই চিঠিতে এই বৃদ্ধা সম্পর্কে কিছু তথ্য আছে। চিঠির ভাষ্য নিম্মরুপ
‘প্রিয় ফরসাইথ। আপনার কাছে একজন মুসলমান বৃদ্ধাকে পাঠাচ্ছি। অদ্ভুত এই নারী। সবুজ জামা গায়ে দিয়ে লোকদের উত্তেজিত করতো এবং নিজেই তাদের নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের উপর আক্রমন করতো। যেসব সেনারা তার সাথে লড়াই করেছে তাদের ভাষ্যমতে সে খুবই সাহসী, অস্ত্র চালনায় পারদর্শী এবং সে একাই ৫ পুরুষের সমান শক্তি রাখে। যেদিন তাকে গ্রেফতার করা হয় সেদিন সে ঘোড়ায় চড়ে বিদ্রোহীদের নিয়ে ফৌজি কায়দায় লড়ছিল। তার বন্দুক দিয়ে সে আমাদের অনেককে গুলি করে। অনেকে হতাহত হয়। পরে তার সাথিরা পালিয়ে যায় এবং সে আহত অবস্থায় গ্রেফতার হয়। জেনারেলের সামনে তাকে আনা হলে তিনি সাধারণ নারী ভেবে তাকে মুক্তি দেয়ার আদেশ দেন। আমি জেনারেলকে বুঝিয়ে বলি একে মুক্তি দিলে সে আমাদের জন্য নতুন সমস্যার সৃষ্টি করবে। সে শহরে ফিরে গেলে অন্ধ বিশ্বাসে আচ্ছন্ন লোকেরা একে কোনো অলৌকিক ঘটনা মনে করবে। ফলে ফ্রান্সের সেই মহিলার মতো জটিলতা দেখা দিবে। (১) জেনারেল সাহেব আমার কথা মেনে নিলেন এবং তাকে বন্দী করার আদেশ দিলেন। মহিলাকে আপনার কাছে পাঠানো হচ্ছে। আপনি একে বন্দী করবেন এবং পাহারায় রাখবেন। — ইতি হাডসন
দিল্লীর লোকমুখে প্রচলিত গল্পগুলোতে এই মহিলার উল্লেখ আছে। হাডসনের চিঠি থেকেও এই ঘটনার সত্যতা মেলে। কিন্তু এ থেকে মহিলার বিস্তারিত পরিচয় জানা জায় না। আমি বহুদিন ধরে চেষ্টা করেছি এই মহিলার প্রকৃত পরিচয় জানতে। কিন্তু কেউই তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানে না। যারা তাকে দেখেছে, তারাও শুধু তাকে লোক সমাগম করতে ও ইংরেজদের সাথে লড়তেই দেখতো। সে কে? কোথায় থাকে , কোথায় যায় এসব তথ্য তাদেরও অজানা। পরে একজনের কাছে আমি একটা গল্প শুনি। তার গল্পের সাথে সবুজ পোষাকের বীরংগনার মিল পাওয়া যায়।
আমাকে এই ঘটনা শুনিয়েছেন রিয়াসত টুংকের এক লোক। তার পিতা ছিলেন হাজি লাল মুহাম্মদ চিশতি নিজামির মুরিদ। হাজি লাল মুহাম্মদ ছিলেন হযরত ফখরুদ্দিন চিশতি নিজামি দেহলভির খলিফা। তার কবর নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজারের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।
টুংকের সেই লোক আমাকে বলেছেন,
‘আমার পিতা আজমীর শরিফে হাজি লাল মুহাম্মদের কাছে বায়াত হন। তখন পাশে এক মাযজুব ধরনের মহিলাও বসা ছিল। মহিলা বারবার হাজি সাহেবকে বলছিল, আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন শহীদ হতে পারি। তার কথাবার্তা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু চলাফেরায় তাকে খানিকটা উদভ্রান্ত মনে হতো। হাজি সাহেব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, যাও নফসের সাথে লড়াই কর। এটাও জিহাদ। মহিলা বললো, নফস কি আমাকে শহীদ করতে পারবে? বা আমি নফসকে হত্যা করতে পারবো? এই কথা শুনে হাজি লাল মুহাম্মদ মুচকি হাসেন। একটু পর তিনি বলেন, মেহেদির পাতা সবুজ কিন্তু ভেতরে লাল। যাও সবুজ ধারণ করে লাল হও। উপস্থিত কেউই হাজি সাহেবের এই কথা বুঝেনি। কিন্তু মহিলা খুব খুশি হয়। বারবার হাজি সাহেবের শুকরিয়া আদায় করে চলে যায়। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল সে যা চাইতে এসেছে তা পেয়ে গেছে। কয়েক মাস পর আমার বাবা এই মহিলাকে দরগাহে খাজা কুতুব সাহেবে দেখেন। মহিলা সেখানে হযরত ফখর সাহেবের মাজারের পাশে বসে মুরাকাবা করছিল। তার মুরাকাবা শেষ হলে পিতা জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাকে আজমির শরিফে দেখেছি মনে হচ্ছে। মহিলা জবাব দেয়, হ্যা। আমিই সেই মহিলা। তোমার পীর বোন’। এরপর পিতা তাকে তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে মহিলা নিজের পরিচয় দেয়।
৩ আমার দাদা ছিলেন আহমদ শাহ আবদালীর সেনাবাহিনীর সর্দার। পানিপথে মারাঠাদের সাথে আবদালীর যে লড়াই হয় দাদা তাতে উপস্থিত ছিলেন। সেই লড়াইয়েই তিনি শহীদ হন। আমার বাবাও আবদালীর বাহিনীতে ছিলেন। তবে সেসময় তার বয়স কম ছিল। যুদ্ধের পর তিনি তার মায়ের সাথে কিছুদিন লাহোর থাকেন। পরে ভাওয়ালপুর গিয়ে একটি চাকুরি নেন। সেখানেই বিবাহ করেন। সেখানে আমার দুই ভাই হয় কিন্তু তারা অল্পবয়সেই মারা যায়। এরপর আমার জন্ম হয়। আমার বাল্যকাল কাটে ভাওয়ালপুরেই। এরপর বাবামার সাথে জয়পুর চলে আসি। বাবা এখানে নতুন একটি চাকরি নেন। বাবা এখানেই মারা যান। রাজার এক মুসলমান কর্মচারীর সাথে আমার বিবাহ হয়। কিছুদিন পর আমার স্বামী খুব অসুস্থ হয়ে যায়। চিকিতসক তার বাচার আশা ছেড়ে দেন। একরাতে আমি তার পাশে বসে কাদছিলাম। দোয়া করছিলাম, হে আল্লাহ আমার স্বামীকে সুস্থ করে দেন। একটু পর আমার ঘুম আসে। ঘুমের ভেতর স্বপ্নে দেখি চারপাশে আগুন লেগে গেছে। লোকজন আগুন নিভাতে পানি ঢালছে কিন্তু সেই পানিও আগুন হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে একপাশ থেকে এক সৌম্যদর্শন বৃদ্ধকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। তিনি আমাকে বলেন, তুমি শহীদ হয়ে যাও। আমি বলি কীভাবে শহীদ হবো। তিনি আমার গায়ে একটি সবুজ চাদর পরিয়ে দেন। আমি চাদর পরতেই চারপাশ থেকে শব্দ আসে সে শহীদ, সে শহীদ। আমার ঘুম ভেংগে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই আমার স্বামী ইন্তেকাল করেন। স্বামীর মৃত্যুতে আমি খুব কষ্ট পাই। এরপর আমি আজমির শরিফ যাই এবং হাজি লাল মুহাম্মদ সাহেবের কাছে বায়াত হই। এখন আমি একা থাকি। বাবা মা আগেই মারা গেছেন। আমার বিশ্বাস স্বপ্নে যাকে দেখেছি তিনি খাজা আজমেরি। তিনি আমাকে দেখা দিয়েছেন। তিনি আমাকে শহিদ হতে বলেছেন। এখন আমি দিল্লীতে বেড়াতে এসেছি। বেশিরভাগ সময় দাদা পীরের ( হযরত ফখর সাহেব) মাজারের পাশেই কাটাই। পরশু দিন দাদাপীরকে স্বপ্নে দেখেছি। তিনিও আমাকে বলেছেন তুমি সবুজ পোষাকের শহীদ। টুংকের সেই লোক বলেন, মহিলার কথা শুনে বাবা চলে আসেন। এর কিছুদিন পর বিদ্রোহ শুরু হয়। এই ঘটনা থেকে মনে হয় বিদ্রোহের সময় এই মহিলাই লোক জড় করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়তেন।
৪ এই গল্প শুনে আমি ভাবতে থাকি। টুংকের লোক যার কথা বলেছে সেই কী দিল্লীর এই লড়াকু নারী? সেই মহিলার কথা অনুযায়ী তার দাদা যদিও আবদালির সেনাবাহিনীতে ছিলেন কিন্তু তার পিতা সারাজীবন অন্যের চাকুরি করে জীবন কাটিয়েছেন। মহিলাও জীবনে কোথাও বন্দুক চালনা কিংবা তলোয়ারবাজী শিখেছে এমন বর্ননা নেই। এমন একজন মহিলার পক্ষে লোক জড় করে সামরিক কায়দায় ইংরেজদের মোকাবেলা করা অনেকটাই অসম্ভব। অবশ্য এও হতে পারে সেই মহিলা বিদ্রোহের শুরুতে বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেয় এবং যুদ্ধের প্রশিক্ষন নেয়।
এই মহিলা যেই হোক না কেনো, তার অসামান্য কীর্তি অবশ্যই বলতে হবে। ১৮৫৭ সালের ইতিহাস লিখতে গিয়ে তার কথা উল্লেখ না করলে এক আকর্ষনীয় অধ্যায় আমাদের চোখের আড়ালেই থেকে যাবে। আমার বিশ্বাস যদি এই মহিলাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্য কোনো কাজে লাগানো যেত তাহলে তার নামও চাঁদ সুলতানা (২), নুরজাহান (৩) ও রাজিয়া সুলতানার (৪) পাশে থাকতো।
হাডসনের চিঠির সাথে আমিও একমত। যদি এই মহিলাকে জেনারেল মুক্তি দিতেন তাহলে বিদ্রোহের আগুন আরো জ্বলে উঠতো। দলে দলে লোক এই মহিলার সাথে যোগ দিতো। এই মহিলা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু এখনো জানতে পারিনি। যদি কোনো ইংরেজী নথি বা দেশিয় লেখায় এই মহিলা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য মিলে তবে আমাকে জানানোর অনুরোধ রইলো। আমি এ নিয়ে বিস্তারিত লিখবো।
আমি ব্রিটিশ অফিসারের মহত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তিনি এই মহিলাকে হত্যা করেননি যদিও এই মহিলা অনেক ইংরেজ অফিসারকে হত্যা করেছে। তিনি রাজকীয় ভদ্রতা ও মনুষত্বের পরিচয় দিয়েছেন। (৫)
টীকা:
১। ফ্রান্সে বিদ্রোহের সময় জোয়ান অব আর্ক নামে এক নারী এমন সাহসিকতার সাথে লড়াই করতো। হাজার হাজার মানুষ তার পক্ষে লড়তো। সবাই ভাবতো সে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। পরে শত্রুরা তাকে পুড়িয়ে মারে। এই ঘটনার দিকে ইংগিত—খাজা নিজামি
২। খ্রিষ্টিয় ১৫৯৬ সনের ১ মার্চ দক্ষিণ ভারতের নিজাম-শাহী রাজবংশের পরিচালিত রাষ্ট্র আহমাদনগরে হামলা চালায় মুঘল সম্রাট আকবরের সেনারা। কিন্তু এই হামলা বীরত্বের সঙ্গে প্রতিহত করেন রাজকন্যা চাঁদ সুলতানা। বিজাপুর রাষ্ট্রের সুলতান আলী আদেল শাহের বিধবা স্ত্রী চাঁদ সুলতানা (চাঁদ বিবি) এ সময় আহমদনগরের নাবালক সুলতান বাহাদুর নিজাম শাহের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এই সুলতান ছিলেন তারই ভাই বা বোনের নাতি। চাঁদ সুলতানা ছিলেন আহমদনগরের সাবেক বাদশাহ হুসাইন নিজাম শাহ (প্রথম)-এর কন্যা। চাঁদ সুলতানা বিজাপুর রাষ্ট্রেরও একই ধরনের অভিভাবক ছিলেন।- অনুবাদক
৩। নুরজাহান বা জগতের আলো(জন্মঃ ৩১ মে, ১৫৭৭– মৃত্যুঃ ১৭ ডিসেম্বর, ১৬৪৫) হচ্ছেন সম্রাট জাহাঙ্গীর এর স্ত্রী। নুরজাহান সম্রাটের দেয়া নাম। তার আসল নাম ছিল মেহেরুন্নিসা।– অনুবাদক
৪। রাজিয়া সুলতানা ( ১২০৫ ,১২৪০) সুলতান ইলতুতমিশের কন্যা ও ভারতবর্ষের প্রথম মহিলা শাসক। তিনি একাধারে একজন ভাল প্রসাশক ও সেনাপতি ছিলেন; তাছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে একজন দক্ষ সৈন্য হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। সুলতান ইলতুতমিশের সব থেকে যোগ্য পুত্র সুলতানের জীবদ্দশায় মৃত্যু বরণ করলে সুলতান তার কন্যা রাজিয়া সুলতানাকে দিল্লীর শাসক হিসেবে মনোনিত করে যান। যখনই ইলতুতমিশের রাজধানী ছাড়তে হত, তিনি তখন তার কন্যা রাজিয়া সুলতানাকে শাসনভার বুঝিয়ে যেতেন। ইলতুতুমিশের পর তিনি ভারতের শাসক হন। —অনুবাদক।
৫। এই একটি ঘটনা দ্বারা ইংরেজদের মহত্ত্ব ও দয়া সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ভুল হবে। বিদ্রোহের পর দিল্লী ও অন্যান্য শহরে তারা যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার বিবরন পেতে মৌলভী যাকাউল্লাহ রচিত ‘তারীখে হিন্দুস্তান’ এর দশম খন্ড এবং খাজা হাসান নিজামির ‘দিহলী কি জা কুনি’ দেখা যেতে পারে। — অনুবাদক
ভিখারি শাহজাদা
এই হলো দিল্লী। একে বলা হয় হিন্দুস্তানের দিল।একসময় এই শহর আবাদ ছিল, লাল কেল্লায় জ্বলছিল মুঘল প্রদীপ, মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে ছিল ইসলামী ঐতিহ্য। শেষেরদিকে এই শহরের বাসিন্দারা বদলে গেল, তাদের আমলের খাতা শূন্য হয়ে গেল। পরিবর্তনটা এসেছিল শাসকদের হাত ধরে। প্রথমে তাদের আমল খারাপ হলো, তারপর শহরবাসী তাদের অনুসরণ করলো। পরিনতিতে শাসক ও শাসিত উভয়েই বরবাদ হলো, তাদের উপর নেমে এলো মুসিবতের দমকা হাওয়া। ইতিহাসের পাতায় উদাহরণ অনেক আছে, তবে এখানে আমি শুধু একটি ঘটনাই বলবো।
#
বিদ্রোহের এক বছর আগের ঘটনা। দিল্লীর বাইরে জংগলে কয়েকজন শাহজাদা শিকারে ব্যস্ত ছিল। সময়টা ছিল মধ্যদুপুর, গাছের ডালে ডালে চড়ুই পাখি ও ঘুঘুর দল বসে জিরিয়ে নিচ্ছিল। খেলার ছলে শাহজাদারা ঘুঘু ও চড়ুইগুলোকে নিশানা বানিয়ে গুলতি ছুড়তে লাগলো। এসময় ঝোপের আড়াল থেকে এক শুভ্রকেশ দরবেশ বের হয়ে এলেন।
‘কেন অবলা প্রানীগুলোকে কষ্ট দিচ্ছেন প্রিয় শাহজাদা। তাদেরও আমাদের মতো অনুভূতি আছে। তারাও ব্যাথা পায়, কষ্ট অনুভব করে কিন্তু তা প্রকাশের ভাষা তাদের নাই। আপনারা বাদশাহর সন্তান। বাদশাহ তো নিজের রাজত্বের প্রতিটি প্রানীর প্রতি দয়াবান হবে’ বললেন দরবেশ।
একথা শুনে বড় শাহজাদা, যার বয়স তখন আঠারো বছর, লজ্জিত হয়ে হাত থেকে গুলতি রেখে দিলেন। তবে ছোট শাহজাদা মির্জা নাসিরুল মুলক বিগড়ে বসলেন, ‘আমরা তো শিকার করতে এসেছি। শিকার করা দোষের কিছু নয়’। দরবেশ বললেন, ‘জনাব, শিকার করা অপরাধ নয়। অযথা প্রানীগুলোকে কষ্ট দেয়া অপরাধ’। দরবেশের কথা শুনে মির্জা নাসিরুল মুলক রাগে ফেটে পড়লো। তাতক্ষনিক গুলতি হাতে নিয়ে দরবেশের হাটুতে ঢিল ছুড়লো। তীব্র ব্যাথায় দরবেশ আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। দরবেশকে মাটিতে পড়তে দেখে দুই শাহজাদা কেল্লার দিকে রওনা হয়ে গেল। দরবেশ হেচড়ে হেচড়ে পুরাতন কবরস্থানের দিকে আগান। তার মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল, ‘যে সিংহাসনের উত্তরাধিকারীরা এতটা নির্দয় ও জালেম, তা আর কী করে টিকে থাকবে। শাহজাদা, তুমি আজ আমার পা ভেংগেছো, একদিন সময় আসবে খোদা তোমার পাও ভেংগে দিবেন। তুমিও সেদিন আমার মতো হেচড়ে চলবে’।
#
তোপ গর্জাচ্ছে। একের পর এক গোলা শূন্যে উঠে আবার নিচে নেমে আসছে। সাথে নিয়ে আসছে ধবংস ও তান্ডব। চারদিকে শুধু লাশের সারি নজরে আসছে। দিল্লীকে মনে হচ্ছে জনমানবহীন। মনে হচ্ছে মৃতের শহর। লাল কেল্লার দরজা খুলে কয়েকজন শাহজাদাকে বের হতে দেখা গেল। শাহজাদারা ঘোড় সওয়ার। তারা পালাচ্ছে পাহাড়গঞ্জের দিকে। একটু পরেই বিশ পচিশজন গোরা সেপাই তাদের ধাওয়া করলো। সেপাইরা শাহজাদাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ শাহজাদারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। নিজেদের রক্তের মাঝে নিজেরা কাতরাতে থাকে। সেপাইরা কাছে এগিয়ে আসে। দেখা যায়, দুই শাহজাদা মারা গেছে। একজন জীবিত আছে এবং তার গায়ে গুলি লাগেনি।। শুধু ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ায় হালকা আঘাত পেয়েছে। সেপাইরা জীবিত শাহজাদাকে গ্রেফতার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ক্যাম্প ছিল পাহাড়ের উপর। বড় অফিসার শাহজাদাকে দেখে চিনতে পারেন। ইনি বাদশাহর নাতী নাসিরুল মুলক। সেপাইদের নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে কয়েদ করতে।
#
বিদ্রোহী সিপাহীরা পরাজিত হয়ে পালাতে থাকে এবং ইংরেজ বাহিনী উল্লাস করতে করতে শহরে প্রবেশ করে। বাহাদুর শাহ জাফর গ্রেফতার হলেন হুমায়ুনের সমাধি থেকে। তৈমুরী রাজত্বের শেষ প্রদীপ এভাবেই নিভে যায়। শহরের বাইরে জংগলে আশ্রয় নেয় সম্ভ্রান্ত শহরবাসী। যে নারীদের চেহারা বাইরের কেউ দেখেনি কখনো, তারাও আজ বে আব্রু। দিল্লীতে চলছে খুনের উতসব। সন্তানের সামনে পিতাকে জবাই করা হচ্ছে। কন্যাকে হত্যা করা হচ্ছে মায়ের সামনে। এই বিশৃংখল সময়টাতে শাহজাদা নাসিরুল মুলককে হাত পা বেধে ফেলে রাখা হয়েছে পাহাড়ি ক্যাম্পে। এক পাঠান সিপাহী এসে বললো, বড় সাহেব আপনাকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছেন। আপনি চলে যান। আবার কোনো বিপদে পড়ার আগে এই এলাকা ছেড়ে যান। শাহজাদার হাত পায়ের বাধন খুলে দেয়া হলো। শাহজাদা পাঠান সিপাহীর শুকরিয়া আদায় করে জঙ্গলের দিকে রওনা হলো। শাহজাদা হাটছে , কিন্তু কোথায় যাচ্ছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা নেই তার। শাহজাদা প্রায় এক মাইল হাটলো। মৃত্যুভয় ও ক্ষুধায় শরীর ক্লান্ত। হাটায় অনভ্যস্ত পা দুটো আর চলতে চাইছে না। গলা শুকিয়ে গেছে। কন্ঠনালীতে কাটার মতো বিধছে কিছু একটা। ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত শাহজাদা এক গাছের ছায়ায় বসে পড়লো। কষ্টের দু ফোটা অশ্রু গালে বেয়ে পড়লো। ‘খোদা, এ কোন মুসিবতে আমাদের ফেললে? আমরা এখন কোথায় যাবো? কোথায় আমাদের ঠিকানা?’এ একথা বলতে বলতে শাহজাদা আসমানের দিকে মাথা তুলে তাকালো। শাহজাদার চোখ পড়লো গাছের ডালে।সেখানে ঘুঘু বাসা বুনেছে। আয়েশ করে ডিমের উপর বসে তা দিচ্ছে। ঘুঘুর স্বাধিনতা ও নিশ্চিন্ত জীবনযাপন দেখে শাহজাদার মুখ থেকে বের হলো, ঘুঘু, তুমি আমার চেয়ে হাজারগুন সুখে আছো। তুমি তো নিশ্চিন্তে নিজের বাসায় বসে আছো। আর আমার জন্য আসমান জমিনের কোথাও এক ইঞ্চি জায়গা নেই’। একটু দূরে একটা বসতি দেখা যাচ্ছে। সেদিকে যাওয়ার জন্য শাহজাদা উঠে দাড়ালো। পা দুটো চলতে চাইছে না। কোনোমতে টেনে টেনে বসতিতে পৌছলো। বসতির বাইরে, বড় একটা গাছের নিচে অনেক লোক জমা হয়েছে।
গাছের নিচে চত্বরের মতো একটা জায়গায় এক কিশোরী বসে আছে। বাতাসে কিশোরীর চুল উড়ছে, তার দুকান রক্তে রঞ্জিত। গ্রাম্য লোকেরা পাশে দাঁড়িয়ে তামাশা করছে। একইসময়ে মেয়েটির সাথে মির্জার চোখাচুখি হলো। দুজনেই চিতকার করে উঠলো। মেয়েটি আর কেউ নয়, মির্জার ছোট বোন। ভাই বোন পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে। দিল্লীর পতন আসন্ন বুঝতে পেরে মির্জার মা ও বোন রথ নিয়ে কেল্লা ছেড়ে কুতুব সাহেবের দিকে রওনা হন। মির্জার ধারনাও ছিলো না , তার মা ও বোন কোনো বিপদে পড়েছে। “বোন তোমার এ অবস্থা কেন’ মির্জা জিজ্ঞাসা করলো। ‘ভাইজান, আমাদের লুটপাট করেছে। চাকরদের মেরে ফেলেছে। আম্মাকে অন্য গ্রামে নিয়ে গেছে। আমাকে এই গ্রামে আনা হয়েছে। আমার চুল ধরে টেনেছে। একের পর এক থাপ্পড় বসিয়েছে গালে’ বলতে বলতে শাহজাদী কেদে ফেললো। কান্নার দমকে তার কথা আটকে গেল। শাহজাদা বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিলো। গ্রামবাসীদের সামনে হাত জোর করে শাহজাদিকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালো। ‘আরে ভাগ এখান থেকে। নইলে এমন মার খাবি যে কল্লা উড়ে যাবে। ওকে আমরা পাশের গ্রাম থেকে কিনে এনেছি। দাম দে, নিয়ে যা’ মাতবর গোছের একজন বললো। ‘চৌধুরী সাহেব, একটু রহম করুন। দাম দিবো কীভাবে? আমি নিজেই তো এখন ভিক্ষুক। একটু দয়া করো। গতকাল তোমরা আমাদের প্রজা ছিলে। আমরা বাদশাহ ছিলাম। আজ সময়ের চাকা উলটে গেছে। যদি আবার আমাদের দিন ফিরে আসে, তাহলে তোমাদের অনেক ধন সম্পদ পুরস্কার দিবো’ শাহজাদার কথা শুনে গ্রামবাসী হেসে দিল। ‘তোর আর বাদশাহ হতে হবে না। তোকে ইংরেজদের হাতে তুলে দিবো। আর এই মেয়ে আমাদের গ্রামে থাকবে। আমাদের ঘর বাড়ি ঝাড়ু দিবে। ক্ষেতে কাজ করবে’ বললো একজন। কথাবার্তা চলার ফাকেই কজন ইংরেজ সেনা এসে গ্রামবাসীকে ঘিরে ফেললো। সামান্য কথা কাটাকাটির পর চারজন গ্রামবাসী ও শাহজাদা শাহজাদিকে ইংরেজরা গ্রেফতার করে।
#
চাদনি চকে ফাসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে সন্দেহভাজনদের। যার ব্যাপারে ইংরেজ অফিসার ফাসির রায় দিচ্ছে তাকেই তাতক্ষনিক ফাসিতে ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত লোককে ফাসি দেয়া হচ্ছে। কাউকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। দিল্লীতে শুধুই খুনের উতসব। শাহজাদা মির্জা নাসির ও তার বোনকে বড় অফিসারের সামনে আনা হলো। কিছুক্ষন কথাবার্তা বলে অফিসার তাদের ছেড়ে দিলো। মুক্তি পেয়ে দুই ভাইবোন এক সওদাগরের বাড়িতে চাকরি নিলো। শাহজাদি সওদাগরের বাচ্চাদের দেখভাল করতো আর শাহজাদা ঘরের বাজার সদাই করতো। কিছুদিন পর শাহজাদি অসুস্থ হয়ে মারা যায়। শাহজাদা আরো কিছুদিন এদিক সেদিক ঘুরে চাকরের কাজ করে। পরে ইংরেজ সরকার তার জন্য মাসিক ৫ রুপি ভাতা নির্ধারণ করে দেয়। সাথে ছোট একটা চাকরির সুবাধে মির্জার দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল।
#
এক বছর আগের কথা। দিল্লীর বাজার, চিতলি কবর, কামরা বাংগিশ ও অন্যান্য এলাকায় এক বৃদ্ধ ভিখারীকে দেখা যেত। তার পা ছিল পক্ষাগাতগ্রস্ত। সে হাতে ভর দিয়ে হেচড়ে হেচড়ে চলাফেরা করতো। তার গলায় ঝুলানো থাকতো ভিখারীর ঝুলি। সে দু কদম এগিয়ে থামতো, আশপাশের পথিকদের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকাতো। তার চোখে ফুটে উঠতো বোবা আকুতি। তার চেহারায় ছিল তৈমুরী বংশের ছাপ। দিল্লীর অনেকেই তাকে চিনতো। তাকে জিজ্ঞেস করলেও তার পরিচয় জানা যেত। তার নাম মির্জা নাসিরুল মুলক, শেষ মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরের নাতী। পেনশনের সব অর্থ ঋনের কারনে শেষ করে ফেলে এখন ভিক্ষার ঝুলিই হয়েছে তার সম্বল। আমি যখনই তাকে দেখতাম, তখনই তার জীবন থেকে শিক্ষা নিতাম। আমার মনে পড়তো তার জীবনের শুরুর দিকের ঘটনাবলী, যার কিছুটা আমি তার মুখে এবং কিছুটা অন্য শাহজাদাদের মুখে শুনেছি। শাহজাদাকে দিল্লীর বাজারে হাতে ভর করে চলতে দেখলে আমার মনে পড়তে সেই দরবেশের কথা, যাকে শাহজাদা গুলতি মেরেছিল এবং তিনি বদদোয়া করে বলেছিলেন, ‘একদিন খোদা তোমার পা’ও ভেংগে দিবেন’। আমার মনে হতো সেই দরবেশের বদদোয়া বাস্তবায়িত হয়েছে। শাহজাদাকে দেখলেই আমি খোদার ভয়ে কাপতে থাকতাম। কিছুদিন আগে এই শাহজাদা ইন্তেকাল করেছে।
এই সত্য ঘটনা থেকে আমাদের ধনী ভাইদের শিক্ষা নেয়ার আছে। অহংকারীর করুন পরিনতি তাদের সামনেই আছে, এরপরেও কি তারা অহংকার ত্যাগ করবে না ?
আমি পীর মাশায়েখদের সন্তানদেরকেও সতর্ক করতে চাই, যারা হাতের তালুতে বাবার মুরিদদের চুমু পেয়ে অভ্যস্ত এবং এটাই তাদের ঠেলে দেয় ধবংসের দিকে। তাদের মনে জমা হয় অহমিকা, দুনিয়ার কাউকে তারা আর মানুষই মনে করে না। নিজের পূর্বসুরিদের কীর্তির উপর ভরসা করে নিজে যোগ্যতা অর্জন না করে অযোগ্য থাকা, একদিন মানুষকে লাঞ্চিত ও অপদস্থ করে। সকল পীরজাদার উচিত তারা সেই যোগ্যতা অর্জন করবে যার কারনে তার পিতাকে পীর বলা হয়। মুরিদদের হাদিয়া তোহফার উপর ভরসা করে থাকা চুড়ান্ত পর্যায়ের আত্মমর্যাদাহীনতা। আমি অনেক পীরজাদাকে দেখেছি, তারা বাল্যকালেই শাহী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং বাবার মুরিদদের নিজের দাস ভাবে। তাদের মনে রাখা উচিত, যেভাবে সময়ের পরিবর্তনে বাদশাহরা ক্ষমতা হারায় এবং তাদের উত্তরাধিকারীরা হয় লাঞ্চিত, সেভাবেই পীরজাদাদের অহংকার ও বদদ্বীনি তাদের পতন ঘটাতে পারে যে কোন সময়। এজন্য সবার উচিত , কঠিন সময় আসার আগেই নিজের নিয়ত ও আমলের পরিবর্তন ঘটানো।
আমি এই কথাগুলোই বলছি এবং বলবো, যতদিন যবান ও কলম সচল থাকে।

Facebook Comments

Write A Comment